March 13, 2026, 11:36 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ লাইসেন্স জারি করে। এতে বলা হয়েছে, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা তদারককারী সংস্থা ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি) এ বিষয়ে একটি চিঠি প্রকাশ করেছে।
এর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের জেরে রুশ তেল বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের কারণে সৃষ্ট আঞ্চলিক অস্থিরতা মোকাবিলা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাও এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
নতুন লাইসেন্স অনুযায়ী, ১২ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা রুশ তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এই ছাড়ের আওতায় পড়বে। এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণাও দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় শক্তিগুলো জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও সরকারি মজুত থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অবমুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে ইরান এখনও তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় কিছু দেশের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেলের দামও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।